সংবাদ ডেস্ক :

অন্যের নামে কাটা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করা যাবে। এ সংক্রান্ত নিয়ম পুনর্বহাল করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। ট্রেন যাত্রায় জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতাও শিথিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রেলর বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কালোবাজারি রোধে ১৩ আগস্ট ‘টিকিট যার ভ্রমণ তার’ নিয়ম জারি করে রেল। গত রোববার থেকে এর প্রয়োগ শুরু হয়। টিকিট হস্তান্তরে তিন মাস জেল, ট্রেনের ভাড়ার সমপরিমাণ জরিমানার বিধান রয়েছে। এ নিয়মের ফলে গত চারদিনে বহু যাত্রী হাতে টিকিট নিয়েও স্টেশনে প্রবেশ করতে পারেননি। অনলাইন ব্যবহার করতে না জানা ব্যক্তিদের ট্রেনের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে।

কালোবাজারি বন্ধে নেওয়া এ সিদ্ধান্তকে ‘ব্যথার উপশমে মাথা কাটার’ সঙ্গে তুলনা করে সমালোচনা হয়। বুধবার সমকালে ‘ট্রেন তুমি কার’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরদিনই আগের নিয়মে ফেরার ঘোষণা দিয়েছে রেল।

করোনার আগে অর্ধেক টিকিট কাউন্টারে, অর্ধেক অনলাইনে বিক্রি হতো। রেল বলছে, করোনা দূর হলেও এখনকার মতো আন্তঃনগরের শতভাগ টিকিট অনলাইনেই বিক্রি হবে। আর কাউন্টারে টিকিট দেওয়া হবে না। কিন্তু সরকারি হিসেবে দেশে প্রায় সাত কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার না করেন না। তারপর রেল নিয়ম চাপিয়েছিল, যিনি ভ্রমণ করবেন তাকেই নিজ নামে টিকিট কিনতে হবে। এজন্য রেল সেবার ওয়েবে বা অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। কিন্তু দেশের অধিকাংশ মানুষের অনলাইন বা মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা নেই। নেই ওয়েব, অ্যাপ ব্যবহারের মতো স্মার্ট ডিভাইস। সবাইকে অনলাইনের ব্যবহার শিখতে হবে।

রেলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যাত্রীগদের সুবিধার্থে বাধ্যতামূলক জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন করার বিষয়টি শিথিল করা হলো। এক আইডি কার্ডে পরিবারের সর্বোচ্চ চারজন সদস্যের টিকেট ক্রয় ও ট্রেন ভ্রমণ করা যাবে। এর ফলে বৃদ্ধ বাবা, মা বা যারা অনলাইনের ব্যবহারের জানেন না, তাদের জন্য অন্য কেউ টিকিট কেটে দিতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here