গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি :: বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গোলাপগঞ্জে মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীকে পিছু হটিয়ে বাংলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা গোলাপগঞ্জকে শক্রমুক্ত করেছিলেন। গত এক দশক ধরে ১২ ডিসেম্বর গোলাপগঞ্জ মুক্ত দিবস হিসেবে পালন হয়ে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গোলাপগঞ্জ মুক্ত দিবস পালন উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ উপজেলা কমান্ডের উদ্যোগে মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় এক আনন্দ র‌্যালী গোলাপগঞ্জ উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালীতে অংশগ্রহণ করেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড নেতৃবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতৃবৃন্দ, থানা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সামাজিক, বিভিন্ন পেশাজীবী-সহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ । র‌্যালী শেষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড অফিসের সামনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলী হোসেনের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ লালন করে আজও সোনার বাংলাদেশের অসম্পূর্ণ কাজ করতে অতন্দ্র প্রহরীর মত কাজ করে যাচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা । আমাদের নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে সঠিক ইতিহাস তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। যাতে আমাদের নতুন প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সোনার বাংলা গড়তে তুলতে পারে। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন আহমদ, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার আসমান উদ্দিন, জেলা সহকারী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সেলিম আহমদ ফলিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভাদেশ্বর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এমএ ছালিক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক সাংগঠনিক কমান্ডার তোতা মিয়া, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ওয়েছুর রহমান ওয়েছ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাবলু, গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি এনামুল হক এনাম প্রমুখ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুনুর রহমান, সমবায় অফিসার জামাল মিঞা, সমাজসেবা কর্মকর্তা তানজীলা তাসনিম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খাদিজা খাতুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকমল আলী, নায়েক আব্দুল মুহিত, ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল আহাদ, পৌর কামান্ডার হানিফ আলী,পরিবেশবাদী আবদুল লতিফ সরকার, গোলাপগঞ্জ
প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য জাহেদুর রহমান জাহেদ, বিজয়ের কন্ঠ গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি সুলতান আবু নাসের, সাংবাদিক জাকারিয়া আবুল, যুব কমান্ডের মনসুর হোসেন মুন্না, উপজেলা সন্তান কমান্ডের জাহেদ আহমদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম, চেরাগ আলী, মঞ্জিল আহমদ,দেলোয়ার হোসেন দিলু, সুহেদ আহমদ প্রমুখ। উল্লেখ্য ১৯৭১ সালের ১১ডিসেম্বর ভোরের দিকে পাক হানাদার বাহিনী প্রাণ রক্ষার জন্য সিলেটের দিকে পালিয়ে যায়। ১২ ডিসেম্বর সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা জি এন চৌধূরী হুমায়ুন সহ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীতে অবস্থিত তৎকালীন একটি বট গাছের চুড়ায় বাঁশের একটি খুঁটি বেধেঁ দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here