সংবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশি লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনার স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাচলেট বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।
করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে গত বছরের ৬ মে মুশতাককে তার লালমাটিয়ার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করার পর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছিল।
৯ মাস কারাগারে থাকার পর ২৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুরের হাই সিকিউরিটি কারাগারে মৃত্যু হয় ৫৩ বছর বয়সী এই লেখকের।
তবে কীভাবে তার মৃত্যু হল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট কোনো বক্তব্য না আসায় সন্দেহ প্রকাশ করেন অনেকে। ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে।
মিশেল সোমবার বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘মুশতাক আহমেদ যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযুক্ত হয়েছিলেন সেটি পুরোপুরি ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। নিজেদের মত প্রকাশের জন্য এই আইনে যারা আটক হয়েছেন সবাইকে অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে।’
একই আইনে বন্দী থাকা কার্টুনিস্ট আহমেদ কিশোরকে নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন হাইকমিশনার।
পেশায় ব্যবসায়ী মুশতাক অনলাইনে লেখালেখিতে বেশ সক্রিয় ছিলেন। তার সঙ্গে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, রাষ্ট্রচিন্তা সংগঠনের দিদারুল ভূইয়া এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় ‘সরকারবিরোধী প্রচার ও গুজব ছড়ানোর’ অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে।
তদন্ত শেষে পুলিশ শুধু মুশতাক, কিশোর ও দিদারকে আসামি করে গত মাসের শুরুতে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। দিদারুল ও মিনহাজ মান্নান জামিন পেলেও কিশোর ও মুশতাকের আবেদন নাকচ হয় কয়েক দফা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here