সংবাদ ডেস্ক :

সুনামগঞ্জের কৃষকরা জমির পাকা ধান কেটে এনে শুকানোর জন্য আগামী ১০ দিনের মধ্যে কেবল ২৭ তারিখ পুরো দিন পাবেন। অর্থাৎ আগামী ১০ দিনের মধ্যে একদিনই ভালভাবে ধান শুকাতে পারবেন। ২৬, ২৮ ও ২৯ এপ্রিলও দিনের কিছু সময় হয়তোবা ধান শুকাতে পারবেন। তবে ২১ তারিখ মঙ্গলবার থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত হাওরে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এজন্য দ্রুত ধান কাটার তাগিদ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এদিকে, আজ রোববার পর্যন্ত জেলার ১১ উপজেলার হাওরাঞ্চলে মাত্র ৯ শতাংশ ধান কর্তন হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, ধান কাটায় গতি না আসলে বিপন্ন হতে পারেন লাখো কৃষক। দ্রুত ধান কেটে আনার জন্য আবহাওয়ার পূর্বাবাস জানিয়ে ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের দিয়ে গ্রামে গ্রামে মাইকিং করার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষকরা।
শাল্লার হরিপুর গ্রামের কৃষক শিমুল দাস বললেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের দিয়ে এলাকায় এলাকায় মাইকিং করে আবহাওয়ার পূর্বাবাস জানাতে হবে। হারভেস্টার এবং রিপার মেশিনগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।
এই উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের কৃষক রথিন্দ্র রায় বললেন, ব্রি ২৮ ধান এক সপ্তাহের মধ্যে কেটে আনা সম্ভব হবে। ব্রি ২৯ ধানে এখনো চাল আসে নি। এই ধানের জমিতেও ৭০ ভাগ ধানে চাল হলেই কেটে আনার জন্য তাগাদা দিতে হবে। তাহলেই ধান দ্রুত কাটা শেষ হবে।
এই দুই কৃষকেরই পরামর্শ হাওরে যারা ধান কাটতে যাবে না। তাদেরকে এই সময়ে আসা সরকারি কোন ধরনের সহায়তা দেওয়া যাবে না বলেও ঘোষণা থাকতে হবে। সহায়তার তালিকা হবে, হাওরে- ফসলি জমিতে গিয়ে। তাহলে শ্রমিক বাড়বে ধান কাটার জন্য।
ধর্মপাশার কৃষক নেতা খায়রুল বাশার ঠাকুর খানের মতে হারভেস্টার বা রিপার মেশিনগুলোকে কৃষি সুপার ভাইজার মাঠে উপস্থিত থেকে ধান কাটার জন্য কাজে লাগাতে হবে। মেশিনগুলোকে কাজের মধ্যে রাখতে হবে। যেহেতু জেলার বাইরের শ্রমিক অন্যান্য বছরের মতো আসেনি। সেহেতু নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। ব্রি-২৮ ধান আগামী ১০ দিনের মধ্যেই কাটা শেষ হবে। ব্রি-২৯ ধানে এই ১০ দিনে ৬০ ভাগে চাল হবে। সেগুলোও কেটে আনা যাবে। গ্রামাঞ্চলে কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিতরা মাঠে নেমে গেছে, তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জোরেশোরে কাজে নামতে উৎসাহিত করতে হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা সিপিবির সভাপতি কৃষক নেতা চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, হারভেস্টার এবং রিপার মেশিনগুলোকে প্রদর্শনির জন্য না রেখে সবগুলো যাতে ধান কাটার কাজে লাগে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। দ্রুত ধান কাটার জন্য আরও বেশি শ্রমিকের প্রয়োজন। অন্য জেলা থেকে জেলা প্রশাসক পর্যায়ে যোগাযোগ করে কৃষি শ্রমিক আনার উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের সহযোগিতা চাইলে সাংগঠনিকভাবে আমরা সহযোগিতা করবো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক সফর উদ্দিন বলেন, ‘রোববার পর্যন্ত জেলার চাষাবাদকৃত ২ লাখ ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর বোরো জমির মধ্যে ২০ হাজার ৮১২ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।’ অর্থাৎ মাত্র ৯ শতাংশ ধান কর্তন হয়েছে।
তিনি জানালেন, ১২৮ টি হারভেস্টার মেশিনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭৮ টি এবং ২১২ টি রিপার মেশিনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১২০ টি ধান কাটার জন্য মাঠে নামিয়েছেন কৃষকরা। অন্যগুলোকে প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করে আগামীকাল থেকে ধান কাটার জন্য মাঠে নামানো হবে।
এদিকে, ধান কাটা মাড়াইয়ের সবচেয়ে জরুরি যে বিষয়টি, সেটিও এবার সুখকর নয়।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আবু সাঈদ চৌধুরী রোববার বিকালে আবহাওয়ার পূর্বাবাস জানাতে গিয়ে বলেছেন, ২১ এপ্রিল বিকাল থেকেই হাওরাঞ্চলে ভারী বর্ষণ হতে পারে। ২২, ২৩, ২৪ ও ২৫ এপ্রিল বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হবে। ২৬ এপ্রিল কিছুটা শুস্ক হবে আবহাওয়া। ২৭ তারিখ দিনটি কৃষকদের জন্য ভালো যাবে। ২৮ তারিখেও আবহাওয়া শুস্ক থাকবে, তবে সামান্য পরিমাণে বৃষ্টি হতে পারে। বরাক উপত্যকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সময়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাবে।
আবহাওয়া বিভাগের আরেকটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এই সময়ে উজানে অর্থাৎ মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি কম হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here