বিশেষ প্রতিবেদন :

প্রকৃতিতে বইছে শীতের আগমনী বার্তা। বার্তার সাথে সাথে অধিক লাভের আশায় আগাম খেজুর গাছ কাটতে শুরু করেছেন চুয়াডাঙ্গার খেজুর গাছ চাষিরা। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য গাছে লাগানো হবে মাটির পাতিল। তাতে সংগ্রহ করা হবে রস। তা দিয়ে তৈরি হবে চুয়াডাঙ্গার বিখ্যাত খেজুরের গুড় ও পাটালি।

চুয়াডাঙ্গার বেশির ভাগ গ্রামে চোখে পড়ে খেজুর গাছ। জমির আইলে আইলে খেজুর গাছ লাগিয়েছেন গ্রামের কৃষক। জেলা সদরের গাড়াবাড়িয়া, সাতগাড়ি, বেলগাছি, সরোজগঞ্জ, মহাম্মদজমা, বোয়ালিয়া এবং দামুড়হুদার জয়রামপুর, দোস্ত প্রভৃতি গ্রামে খেজুরের গাছ বেশি। এসব গ্রামে খেজুরের রস বিক্রি ও গুড় তৈরির কাজ চলে পুরোদমে। এখন চলছে প্রস্তুতি।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সাতগাড়ি গ্রামের শাহীন আলীর খেজুর গাছ রয়েছে ১৭০টি। বোয়ালিয়া গ্রামের শুকুর আলীর ১২০টি। একই গ্রামের রমজান আলীর রয়েছে ৮০টি। এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য তারা এখন খেজুর গাছের আগা ঝোড়া, চাঁছাছোলা ও নলি মারায় ব্যস্ত। শীত মৌসুমের পুরো চার মাস তারা বাড়িতে খেজুরের গুড় ও পাটালি তৈরি করেন এবং বাজারে বিক্রি করে থাকেন।

খেজুর গাছ চাষিরা জানান, খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে গাছের আগা কাটা হয়। আগা কাটা শ্রমিকও পাওয়া যায় গ্রামে। ২৫০ টাকা মজুরি নিয়ে তারা গাছ কাটেন সকাল ৮টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত শীত। এই মৌসুমে গ্রামের কৃষকের খেজুর গাছ কেটে সংসার চলে অনেকের। শীত মৌসুমে ব্যাপারিরা চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ ও জয়রামপুরের গুড়ের হাটে আসেন। তারা এসব হাট থেকে খেজুরের গুড় ও পাটালি কিনে সারা দেশে সরবরাহ করেন। অনেকে দেশের বাইরেও পাঠান।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুফি মো. রফিকুজ্জামান জানান, চুয়াডাঙ্গায় প্রায় ৩ লাখ খেজুর গাছ আছে। এ জেলার খেজুরের গুড়ের সুনাম দেশজুড়ে। শীতের মৌসুমে এ এলাকার কৃষক খেজুর গাছ থেকে বাড়তি আয় করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here