সংবাদ ডেস্ক ::

পর্যটন নগরী এবং চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।

গত ২৬ মে অ্যাপসের মাধ্যমে দক্ষ যাত্রীরা ঘরে বসেই  শ্রীমঙ্গলের টিকিট কেটেছে। ফলে শ্রীমঙ্গল-ঢাকাগামী চারটি আন্তঃনগর ট্রেনের বিভিন্ন শ্রেণির জন্য বরাদ্দ ২৮১টি টিকেটের মধ্যে বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ১৩৮টি টিকেট। অবশিষ্ট ১৪৩টি টিকেট পাওয়া যাচ্ছে রেলওয়ের অনলাইন সেবা অর্থাৎ অ্যাপসের মধ্যে।

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে সূত্র জানায়, শ্রীমঙ্গলের জন্য বরাদ্দকৃত ২৮১টি টিকিটের মধ্যে রেলওয়ের অ্যাপসের সেবা চালু হওয়ায় ৫০ শতাংশ টিকিট সরাসরি স্টেশন কাউন্টারে কমিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে চলছে ঢাকাগামী চারটি আন্তঃনগর ট্রেনের তীব্র টিকেট সংকট। এতে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে শ্রীমঙ্গল বেড়াতে আসা পর্যটকরা স্টেশন থেকে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

এদিকে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে আসা যাত্রীরা কাঙ্খিত টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আগেই অ্যাপসের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলের বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক টিকিটই কেটেছেন দক্ষ যাত্রীরা। ফলে অ্যাপসের মাধ্যমে টিকিট কাটতে না পেরে বঞ্চিত হচ্ছেন অদক্ষ সাধারণ যাত্রীরা।

সূত্র জানায়, সকাল ৯টায় ৫ মিনিটে শ্রীমঙ্গলে আসা ঢাকাগামী ৭৭৪ নং ‘কালনি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন’ এর বিভিন্ন শ্রেণিতে মোট আসন ৫১টি। বর্তমানে ২৬টি আসন শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে পাওয়া গেলেও অবশিষ্ট ২৫টি অ্যাপসের মাধ্যমে কিনতে হচ্ছে।

রেলওয়ে সূত্র আরও জানায়, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে শ্রীমঙ্গলে আসা ঢাকাগামী ৭১৮ নং ‘জয়ন্তিকা আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন’ এর বিভিন্ন শ্রেণিতে মোট আসন ৬৪টি। বর্তমানে ২৮টি আসন শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে পাওয়া যাচ্ছে।

বিকেল ৫টায় সিলেট ছেড়ে শ্রীমঙ্গলে আসা ঢাকাগামী ৭১০নং ‘পারাবত আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন’ এর বিভিন্ন শ্রেণিতে ‘শ্রীমঙ্গল-ঢাকা’ গন্তব্যের জন্য মোট আসন ১০৫টি। তবে বর্তমানে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে ৫৩টি আসনের টিকিট পাওয়া গেছে যাচ্ছে। অবশিষ্ট ৫২টি টিকিট রেলওয়ের অ্যাপসের এর মাধ্যমে ক্রয় করতে হচ্ছে। রাত ১২টা ২০ মিনিটে সিলেট ছেড়ে শ্রীমঙ্গলে আসা ঢাকাগামী ৭৪০নং ‘উপবন আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন’ এর বিভিন্ন শ্রেণিতে ‘শ্রীমঙ্গল-ঢাকা’ গন্তব্যের জন্য মোট আসন ৬১টি থাকলেও যাত্রীদের জন্য রেলওয়ের অ্যাপসের মাধ্যমে ৩০টি টিকিট কাটার সুযোগ রয়েছে।

শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসা পর্যটক শেখ সাদী টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার বয়স প্রায় ৬০ বছর। আমি দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও টিকেট পাইনি। এই বয়সে আমি কি স্মার্টফোনের অ্যাপস চালিয়ে টিকিট কিনতে পারবো? পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলের জন্য আরও দ্বিগুণ টিকিট বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। পৃথিবীর অন্যান্য সব দেশে পর্যটকদের জন্য আলাদা টিকিট কোটার ব্যবস্থা রাখা আছে।

শ্রীমঙ্গলের স্টেশন মাস্টার (গ্রেড-১) মো. জাহাঙ্গীর আলম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, শ্রীমঙ্গলের টিকিট কাউন্টারের কোটা থেকে শ্রীমঙ্গল-ঢাকাগামী বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের দৈনিক টিকিটের প্রায় ৫০ শতাংশ টিকিট কেটে ফেলা হচ্ছে অ্যাপসের মাধ্যমে। ফলে পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে চলছে টিকিটের তীব্র সংকট। দূর-দুরান্ত থেকে স্টেশনে আসা যাত্রীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট পাচ্ছেন না।

সূত্র : বাংলানিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here