সংবাদ ডেস্ক ::

ব্রিজ নির্মাণের পর পাঁচ বছর শেষ। কিন্তু, এখনও সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়নি। এতে সাত গ্রামের মানুষ, বিশেষ করে কৃষকরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটেছে। উত্তর ভাগ ইউনিয়নের কাউয়াদীঘি হাওর সংলগ্ন সুনামপুর-সুরিখাল সড়কের পুকুরিয়া বিলের পাড় সড়কে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কহীন ব্রিজটি এখন উপকারের পরিবর্তে বিড়ম্বনার অন্যতম কারণ। হাওরের কৃষকদের উপকারে ছোট গাড়ি চলার জন্য তৈরি সড়কপথটি এখন পুরোপুরি অচল। তাই ব্রিজের পাশ দিয়ে চলাচল করে নৌকা। শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে আর বর্ষা মৌসুমে হাওরের কৃষিজমিতে যাওয়ার একমাত্র ভরসা নৌকা।

কৃষিজীবীরা অভিযোগ করেন, ব্রিজের দু’পাশে মাটি ভরাট না করায় এ পথ দিয়ে একেবারে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ব্রিজের সঙ্গে সড়কের সংযোগ না হওয়াতে কিছু পথ পায়ে হেঁটে, আবার কিছু পথ নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বলতে গেলে সড়ক থাকার পরও নৌকাই একমাত্র ভরসা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই ইউনিয়নের সোনামপুর, কেশরপাড়া, উমরপুর, কান্দিগাঁও, সুরিখাল, সুপ্রাকান্দি ও ডুগিকোনাসহ হাওর পাড়ের গ্রামগুলোর হাওরের ক্ষেতের জমির সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ওই সড়ক। সাতটি গ্রামসহ ওই এলাকার কয়েক হাজার বোরো চাষিদের ক্ষেতের মাঠে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি।

উত্তরভাগ ইউনিয়নের কেশরপাড়া, সুড়িখালের ও সোমাপুরের কৃষক জরিফ মিয়া, কাইয়ুম মিয়া, সুফিয়ান মিয়া ও আনোয়ার মিয়ার সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা জানান, ব্রিজটির সঙ্গে সড়কের সংযোগ হলে তারা সহজেই ক্ষেতের জমিতে যাতায়াত করতে পারতেন। ফলে সময়, শ্রম ও ফসলহানির শঙ্কাও কমে যেত। আর ফসলের উৎপাদনও হতো দ্বিগুণ। ব্রিজের পাশে মাটি ভরাট না করার কারণে ৭ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনার শেষ নেই।

তাদের অভিযোগ, যখন নির্মাণ কাজ হয়, তখন ব্রিজটি নিচু করে ওঠানো হয়েছে। যদি আরও কিছুটা উঁচু হতো, তবে বর্ষা মৌসুমে ব্রিজের নিচ দিয়ে নৌকায় চলাচল করা যেত।

এই প্রসঙ্গে উত্তরভাগ ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘এই ব্রিজ সাবেক ইউপি সদস্য আলী আহমদের সময়ে নির্মাণ হয়েছিল। পরে আর মাটি ভরাট হয়নি।’

মাটি ভরাটের কাজ কেন হচ্ছে না জানতে চাইলে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘মাটি ভরাট নিয়ে উত্তরভাগ ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন মাটি ভরাটের কাজ হবে।’

রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ শাহীদুজ্জামান ছালিক বলেন, ‘বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাওর পাড়ের কৃষকদের দুর্ভোগ লাগবে জনগুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় ব্রিজটির সঙ্গে সড়ক সংযোগের কাজ করবো।’

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফেরদৌসি আক্তার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আমার আমলে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার কাজ চলমান আছে। কোথাও কোনও গাফলা নেই।  সুরিখাল এলাকার ব্রিজের বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অথবা ইউপি সদস্য কেউই মৌখিকভাবে জানালো না, এটা দুঃখজনক। একটা প্রজেক্টে এত বড় গাফলা! আমি শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।’

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here