সংবাদ ডেস্ক ::

মধ্যরাতের যেকোনো সময়ে খুলনা-মোংলায় ঘূর্ণিঝড় ফনী আঘাত হানবে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৫ জনকে নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আজ রাত পর্যন্ত ১৫ থেকে ১৮ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। ফনী কিছুটা দুর্বল হলেও ওই অঞ্চলে সতর্ক সংকেত ৭ অব্যাহত থাকবে।

আজ শুক্রবার রাতে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি। সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ শাহ কামাল, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফনী ওডিশায় আঘাত হানার পর কিছুটা দূর্বল হয়েছে। আজ মধ্যরাতে বাংলাদেশের খুলনা-মোংলা এবং তদসংলগ্ন এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। রয়েছে জলোচ্ছাসেরও সম্ভাবনা। তবে কোন অবস্থাতেই অবহেলা করার সুযোগ নেই। কারণ খুলনা অঞ্চলে যে সময় আঘাত হানবে, তখন এর বাতাসের গতিবেগ থাকবে ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। অতীতেও দেখা গেছে এমন গতিবেগের ঝড়ে বাংলাদেশে অনেক জানমালের ক্ষতি হয়েছে। আর যখন আঘাত হানবে তখন সবার ঘুমিয়ে থাকার কথা। ফনী কিছুটা দূর্বল হলেও খুলনা এবং এর আশপাশের অঞ্চলে ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত অব্যাহত থাকবে। পেনিক সৃষ্টি করতে নয়, তবে সতর্ক এবং ১৯ উপদ্রুত এলাকার সবাইকে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে।’

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের ৪ হাজার ৭১টি সাইক্লোন শেল্টারে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৫ জনকে নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আজ রাত পর্যন্ত ১৫ থেকে ১৮ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তায় সার্বক্ষনিকের জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শুধু আশ্রয় কেন্দ্রগুলোই নয়, আশ্রয় নেওয়া মানুষের বাড়ি-ঘরের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি কোস্টগার্ড, আনসার ভিডিপি, র‌্যাব, সেনাবাহিনীর সঙ্গে রেডক্রিসেন্ট ভলান্টিয়ার এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও উপদ্রুত এলাকায় কাজ করছেন।’
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘৩০টি নৌ বাহিনীর জাহাজ এবং বিমান বাহিনীর কয়েকটি হেলিকপ্টারে ইতিমধ্যেই ত্রাণ-সামগ্রী ভরে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে এসব ত্রাণ সামগ্রী আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হবে।’ সহযোগিতায় সরকারের পক্ষ থেকে ৪০ কোটি টাকা মজুদ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘লন্ডন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষনিক এ ঘূর্নিঝড়ের বিষয়ে তদারকি করছেন। জানমালের যাতে কোন রকম ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সেজন্য যা যা করার দরকার তা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উপদ্রুত ১৯ জেলার ডিসিরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিতে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে কাজে সম্পৃক্ত করেছেন। তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে নানা নির্দেশনা।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here